বসাক বুক স্টোর — একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, একটি বিশ্বাসের গল্প
১৯৬১ সাল। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কলেজ স্ট্রিট। বইয়ের গন্ধে, স্বপ্নে আর সংগ্রামে ভরা সেই বইপাড়ার এক কোণে, ফুটপাথের পাশে অল্প কয়েকটি বই নিয়ে এক মানুষের স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। সেই মানুষটি ছিলেন শ্রদ্ধেয় বিশ্বনাথ বসাক। মূলধন ছিল সীমিত, কিন্তু সাহস ছিল অসীম। আর ছিল বইয়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।
সেই ছোট্ট স্বপ্নই আজ দীর্ঘ পথ পেরিয়ে হাজারো পাঠকের বিশ্বাসের নাম—বসাক বুক স্টোর।
সময়ের স্রোতে ব্যবসার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে দায়িত্বও। বিশ্বনাথ বসাকের আদর্শকে সঙ্গী করে তাঁর পুত্র, বর্তমান পরিচালক শ্রী স্বপন বসাক, প্রতিষ্ঠানকে আরও সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তক থেকে শুরু করে উপন্যাস, গল্প, কবিতা, থ্রিলার, জীবনী—বাংলা সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি ধারায় নিজেদের সাধ্যমতো সেরা কাজ তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছে বসাক বুক স্টোর।
এই নিরলস পথচলারই স্বীকৃতি হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি Basak Book Store Private Limited-এ রূপান্তরিত হয়।
তবে এই দীর্ঘ প্রায় পঁয়ষট্টি বছরের পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। ছিল অসংখ্য চ্যালেঞ্জ, অনিশ্চয়তা, উত্থান-পতন, সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প। কিন্তু প্রতিটি কঠিন সময়ে আমাদের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন আমাদের পাঠক, লেখক, শুভানুধ্যায়ী এবং বইপ্রেমীরা। তাঁদের ভালোবাসাই আমাদের বারবার নতুন করে শুরু করার সাহস দিয়েছে।
আজও অনেকেই আমাদের শুধু "বসাক" বলে চেনেন। কেউ বলেন "বসাক বুক স্টোর", আবার কেউ সম্পূর্ণ নাম উচ্চারণ করে বলেন "বসাক বুক স্টোর প্রাইভেট লিমিটেড"। নাম যাই হোক, আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় একটাই—পাঠকের বিশ্বাস।
আমরা বিশ্বাস করি, সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান। তাই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বদলানো, আধুনিক প্রযুক্তিকে গ্রহণ করা এবং নতুন প্রজন্মের পাঠকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে যাওয়াই আমাদের অঙ্গীকার। ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে, আধুনিকতাকে সঙ্গী করে আমরা এগিয়ে চলেছি আগামী দিনের পথে।
আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই, তখন ফুটপাথের সেই ছোট্ট বইয়ের দোকান আর আজকের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু সময়ের ব্যবধান নয়—জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের ভালোবাসা, আশীর্বাদ, বিশ্বাস এবং অগণিত স্মৃতি।
এই যাত্রা আমাদের একার নয়। এটি প্রতিটি পাঠকের, প্রতিটি লেখকের, প্রতিটি শুভানুধ্যায়ীর।
আপনাদের হাত ধরেই বসাক বুক স্টোর আজও এগিয়ে চলেছে, আর আপনাদের ভালোবাসা ও আশীর্বাদ নিয়েই আগামী দিনেও বাংলা প্রকাশনার জগতে নতুন স্বপ্ন, নতুন সম্ভাবনা এবং নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়ে অটুট থাকবে।
বইয়ের প্রতি ভালোবাসাই আমাদের পরিচয়।
পাঠকের বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।